ফরিদপুরে একটি অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। বিদেশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ নেওয়ার পর মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ এবং ৯ দিন শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় শিকলবন্দি অবস্থায় মো. নিলয় শিকদার (৩৫) নামের এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিলয় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মহেষপাড়া গ্রামের প্রয়াত আবু খায়ের সিকদারের ছেলে।
রোববার (১৬ আগস্ট) র্যাব-১০ এর অধিনায়ক (পরিচালক) মোহা. আসাদুজ্জামানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা ফরিদপুর সদর উপজেলার রঘুনন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২), গোয়ালচামট এলাকার মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে মহুয়া আহমেদ (৩২), মুন্সীডাঙ্গী গ্রামের এস এম মনোয়ার (৩৬)।
তাদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিলয় সিকদারের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ কয়েক দফায় প্রায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশে না পাঠিয়ে তাকে অপহরণ করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ৬ আগস্ট নিলয় শিকদারকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তার পরিবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কয়েকটি নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু এরপরও নিলয়কে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনায় নিলয় সিকদারের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল ফরিদপুর শহরের চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায়। সেখানে পায়ে শিকল ও তালা লাগানো অবস্থায় নিলয় শিকদারকে উদ্ধার করা হয়।
