আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলার এই বিপজ্জনক চক্র পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান ও কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে।
চলমান এই সহিংসতায় কাতার নিজেই দুবার হামলার শিকার হয়েছে। ওমান উপকূলেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত করেছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের মুখে।
এদিকে ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যেসব প্রতিবেশী দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধারণ করছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। ইরানি গণমাধ্যম ‘ফার্স’ ইতিমধ্যে বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি কৌশলগত সমুদ্রবন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনী ইরানের টানেল, রাস্তা, সেতু ও রেলপথে হামলা চালানোয় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, প্রতিটি মার্কিন পদক্ষেপের বিপরীতে ইরানও পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করছে। এর ফলে সংঘাত উভয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে একটি ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কূটনীতির সব পথ বন্ধ করে দিতে পারে।
