হারুন-অর-রশীদ
দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে পাট চাষ করেছেন।
তবে বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকলেও উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক সংকট ও পাট কাটার বাড়তি খরচে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না তাঁরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর, বাস্তবে চাষ হয়েছে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টরে—লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি।
বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। বোয়ালমারীর কৃষক নুর আলম বলেন, সার-বীজ-কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে তেমন লাভ থাকছে না; মণপ্রতি দাম ৫ হাজার টাকা ছাড়ালে স্বস্তি মিলত। নগরকান্দার আলিম মোল্যা জানান, সময়মতো পাট কাটার শ্রমিক না পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। ভাঙ্গার কৃষক শহিদ খান বলেন, দৈনিক শ্রমিক মজুরি এখন ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
আড়ৎদার সুজন মাতুব্বর বলেন, এবার বাজারে ভালো মানের পাট আসছে, আন্তর্জাতিক চাহিদা ও পাটকলের ক্রয় কার্যক্রমের ওপর দাম নির্ভর করবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় পাটের সম্ভাবনা আবার উজ্জ্বল হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলেই এ খাত শক্তিশালী হবে।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
