বিনোদন ডেস্ক
১৯৯০ সালে মুভি ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজেশ খান্না বলেছিলেন, টানা সাতটি সিনেমা ফ্লপ হওয়ার পর তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, এক রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ির ছাদে উঠে ঈশ্বরের উদ্দেশে চিৎকার করেছিলেন।
তার ভাষায়, ‘একটার পর একটা সাতটি সিনেমা ফ্লপ হয়েছিল। সেদিন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল, চারদিকে অন্ধকার। আমি একা ছাদে দাঁড়িয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম। চিৎকার করে শুধু সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছিলাম।’
এরপর তিনি বলেন, ‘ডিম্পল আর আমার বাড়ির কর্মীরা দৌড়ে এসেছিল। তারা ভেবেছিল আমি বুঝি পাগল হয়ে গেছি। আসলে সাফল্য আমাকে এতটাই আচ্ছন্ন করেছিল যে, ব্যর্থতা মেনে নিতে পারিনি।’
তবে বিয়ের নয় বছর পর দুই মেয়ে টুইঙ্কল ও রিঙ্কিকে নিয়ে রাজেশের বাড়ি ছেড়ে বাবা-মায়ের কাছে চলে যান ডিম্পল। যদিও তারা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ নেননি। আলাদা থাকলেও রাজেশ খান্নার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের আইনি সম্পর্ক বহাল ছিল।
১৯৯৪ সালে সাংবাদিক প্রীতিশ নন্দীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিম্পল কাপাডিয়া তাদের দাম্পত্য জীবনের সংকট নিয়ে কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানুষ ছিলাম। আমি খুবই ছোট ছিলাম। একজন সুপারস্টারের জীবনে কী ঘটে, তার আচরণ কেমন হয়—এসব আমি বুঝতে পারিনি। আমি নিজে কখনো তারকা ছিলাম না, তাই বিষয়গুলো আমার কাছে খুব কঠিন ছিল। সত্যি বলতে, আমি তাকে বুঝতেই পারিনি।’
ডিম্পল সেই সময়টিকে ‘ভীষণ ট্রমাটিক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
দীর্ঘদিন ক্যানসার ও লিভারের জটিলতায় ভোগার পর ২০১২ সালে, ৬৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বিখ্যাত বাংলো ‘আশীর্বাদ’–এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজেশ খান্না। তার মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগের অবসানের প্রতীক হয়ে আছে। সূত্র: এনডিটিভি
