নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুর জেলার তথ্য বাতায়নের অন্তর্ভুক্ত সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েব পোর্টালে হালনাগাদ তথ্যের অবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়। ৭৬টি পোর্টাল পর্যবেক্ষণ করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ফরিদপুর এ চিত্র পেয়েছে।
পর্যবেক্ষণে সাতটি সাধারণ বিষয় দেখা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো নোটিশ বোর্ড, খবর, অফিসপ্রধানের তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য, সেবাসমূহের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিও) সংক্রান্ত তথ্য ও যোগাযোগ। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এসব তথ্য ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান থাকার কথা। পোর্টালের অন্যান্য বিষয় এই পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৬টি পোর্টালের মধ্যে মাত্র ৪৬টিতে নোটিশ বোর্ড ও ২৮টিতে খবর অংশের ব্যবহার দেখা গেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই তথ্য হালনাগাদ নেই। আগের পর্যবেক্ষণে নোটিশ বোর্ড ছিল ৫৭টিতে, এবার তা কমেছে। সেবার তালিকা বা সিটিজেন চার্টারের তথ্য আছে ৫২টিতে, আগে ছিল ৬৬টিতে। খবর অংশ আছে এমন পোর্টালের সংখ্যা আগের ২৬ থেকে সামান্য বেড়ে ২৮ হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য আছে ৭১টিতে, যোগাযোগের তথ্য ৬৩টিতে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য ৪৯টিতে। এই তিন বিষয়ে সংখ্যা আগের মতোই আছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আংশিক। কোথাও নাম ও পদবি আছে, কিন্তু মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল নেই।
সংখ্যাগত চিত্রে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা কারাগার, ডাক বিভাগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বিএসটিআই ও জেলা পরিষদ সব কটি নির্ধারিত বিষয়ে তথ্য হালনাগাদ রেখেছে। অন্যদিকে র্যাব ও কর কমিশনারের কার্যালয়ের পোর্টালে কোনো বিষয়েই তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল হাসপাতাল, বিআরটিএ, সরকারি শিশু পরিবার ও জেলা রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও হালনাগাদ তথ্য কম বা নেই।
পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, কিছু পোর্টালের মূল মেনুতে তথ্য না থাকলেও ভেতরে আছে। অনেক ওয়েবসাইটে ডিওর তথ্য থাকলেও বিকল্প ডিওর তথ্য নেই। কোথাও ডিও ও বিকল্প ডিও একই ব্যক্তি। যেসব ডিওর নাম পোর্টালে আছে, তাঁদের কেউ কেউ বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। যোগাযোগের তথ্যও অসম্পূর্ণ। কিছু অফিসের শুধু মানচিত্র আছে, ঠিকানা নেই। কোথাও গুগল ম্যাপের লিংক সঠিক নয়। সেবার তথ্য বা সিটিজেন চার্টার কোথাও ২০১৮ কিংবা ২০২১ সালের।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে সনাক কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে আছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে হালনাগাদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ও বিকল্প কর্মকর্তা নিশ্চিত করা। কর্মকর্তা বদলির সঙ্গে সঙ্গে পোর্টাল হালনাগাদ, সব তথ্য মূল মেনুতে রাখা এবং মাসে একাধিকবার পোর্টাল পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশও রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কার্যকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার অনিয়ম ও দুর্নীতি কমিয়ে জনগণের হয়রানি রোধ এবং সেবায় সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও প্রতিবেদন তৈরিতে ছিলেন ইয়েস সদস্য সৌরভ সরকার, জাহিদ হোসেন শান্ত ও তানজিলা আক্তার।
