নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক কারণে সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে ডিবি সদর জোন থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ওই দিন বেলা একটার মধ্যে তাঁকে সেখানে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম জানান, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শনিবার (২০ জুন) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাঁকে আটক করে।
প্রান্তের পরিবারের দাবি, আটকের সময় তাঁর মায়ের সামনেই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এর পরদিন রবিবার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার জানাজার আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রান্তর পরিবারের অনুরোধ ও আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
একই দিন মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের পূর্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন স্থানীয় বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা এই ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
