ঢাকামঙ্গলবার , ২৬ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্যুর মহাসড়ক- ফরিদপুরের রক্তাক্ত পথ কথা বলে

Doinik Kumar
মে ২৬, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রিয়জনকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু- এ কেবল দুর্ঘটনা নয়, এ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার করুণ মুখ

● মে মাসে নিহত (বৃহত্তর ফরিদপুর)    ৭ +  
●  আহত (শুধু মে ২০২৬)                      ১৫ +   
●  পৃথক দুর্ঘটনা (৭ দিনে)                       ৩ +
চিকিৎসার জন্য বের হয়েছিলেন, ফিরে এলেন লাশ হয়ে। মাদারীপুরের বালিয়া গ্রামের হাজী আব্দুল ওয়াহেদ মোল্লার পরিবার রোববার ২৪ মে ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে রওনা দিয়েছিল। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার শংকরপাশায় একটি বিআরটিসি বাসের বেপরোয়া ওভারটেকিং সেই যাত্রাকে পরিণত করে কবরযাত্রায়। একই পরিবারের চারজন সদস্য- বাবা, দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূ — ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান; প্রাণ যায় অ্যাম্বুলেন্সচালক কাউছার হোসেনেরও। সেই দিনই গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় মারা যান আরও দুইজন, আহত হন এক সাংবাদিকসহ চারজন। তার কদিন আগে, ১৮ মে, মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়কে প্রাণ ঝরে যায় ১৮ বছরের মোটরসাইকেল আরোহী সিয়াম হাওলাদারের। আর ভাঙ্গায় পাংচার হওয়া পিকআপে পেছন থেকে আরেকটি পিকআপের ধাক্কায় মারা যান দুজন শ্রমিক। এই মাসেই ফরিদপুর শহরে মাটিবাহী লরির ধাক্কায় প্রাণ যায় কলেজছাত্রী উপাসনা ঘোষের।
সমস্যার চেহারা:  একটি অঞ্চলের রক্তক্ষরণ
বৃহত্তর ফরিদপুর — অর্থাৎ ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী — দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ বহন করে চলেছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং জেলা সড়কগুলো এ অঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা হয়েও বারবার পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে। চালকের বেপরোয়া গতি ও অবৈধ ওভারটেকিং, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, সড়কের অপ্রশস্ততা ও মোড়গুলোতে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধকতা — এই পাঁচটি কারণ বারবার উঠে আসছে প্রতিটি ঘটনার পেছনে।
কারণ অনুসন্ধান:  আইনের শিথিলতা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রয়তা
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ (আইন নং ৫২/২০১৮)-এর ধারা ১৫-এ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো চালক বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত চালনা দ্বারা মৃত্যুর কারণ ঘটালে তা অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয়। একই আইনের ধারা ৪৬-এ ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলানো নিষিদ্ধ এবং দণ্ডযোগ্য। ধারা ২-এ লাইসেন্সবিহীন চালনাও স্পষ্ট অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। তবুও প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মামলা হয়, প্রাথমিক গ্রেপ্তার হয়, এরপর নীরবতা নামে। দোষী চালকেরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার চাকার পেছনে বসেন। বিআরটিএর তদন্ত প্রতিবেদন ফাইলে চাপা পড়ে। মোটরযান বিধিমালা, ১৯৮৪-এর বিধি ৫১ অনুযায়ী প্রতিটি গণপরিবহনের নির্ধারিত গতিসীমা মহাসড়কে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার — এই বিধান বাস্তবে উপেক্ষিত। স্পিড গভর্নর বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও এর প্রয়োগ নেই। ফলে আইন থাকে কাগজে, মৃত্যু হয় রাস্তায়।
সমাধানের পথ: আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই
প্রথম কাজ হওয়া উচিত দুর্ঘটনার বিচারের ত্বরান্বিতকরণ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান আছে — এই বিধান কার্যকর করতে হবে এখনই। দ্বিতীয়ত, বিআরটিএ আইনের ধারা ৩৭ মোতাবেক ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্স নিয়মিত যাচাই করে অযোগ্য যান ও চালকদের তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। তৃতীয়ত, মোটরযান বিধিমালার বিধি ৫৪ক অনুযায়ী প্রতিটি গণপরিবহনে কার্যকর স্পিড গভর্নর নিশ্চিত করতে হবে এবং হাইওয়ে পুলিশকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তা পরীক্ষার ক্ষমতা দিতে হবে। চতুর্থত, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো — বিশেষত শংকরপাশা, ভাঙ্গা মোড়, শিবচর সংযোগ সড়ক — এ ডিভাইডার, রাম্বল স্ট্রিপ ও পর্যাপ্ত সাইনেজ স্থাপন সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়। পঞ্চমত, চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে সড়ক পরিবহন আইনের ধারা ২৮ প্রযোগ করতে হবে।
মাদারীপুরের বালিয়া গ্রামের সেই পরিবারটি জানত না যে চিকিৎসার পথ হবে তাদের শেষ পথ। তারা আইনের সুরক্ষা চেয়েছিল, রাষ্ট্রের কাছে নিরাপদ সড়ক চেয়েছিল। এই চাওয়া পূরণ করতে না পারলে সব উন্নয়নের দাবি অর্থহীন। আমরা দৈনিক কুমারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি – বৃহত্তর ফরিদপুরের মহাসড়কগুলোতে তাৎক্ষণিক টাস্কফোর্স মোতায়েন করুন, দুর্ঘটনার বিচার ত্বরান্বিত করুন এবং আইনের পূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করুন। রক্তের হিসাব দিতেই হবে।  – সম্পাদকীয়, দৈনিক কুমার

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।