ঢাকারবিবার , ১৭ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিকতার ছদ্মবেশ ও প্রশাসনের উদাসীনতা: এই অবক্ষয় থামবে কবে?

Doinik Kumar
মে ১৭, ২০২৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ১৩ মে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সরকারি মতবিনিময় সভা পণ্ড হওয়ার ঘটনা নয়; বরং এটি আমাদের বর্তমান সমাজ, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের এক গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। নবাগত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় এবং জেলা তথ্য অফিসের উন্নয়নবিষয়ক আলোচনা সভা—দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিই ভেস্তে গেছে আমন্ত্রিতদের তালিকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে। মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের সমান্তরালে ফেসবুক ও ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একই কাতারে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে সাংবাদিকরা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন। এই ঘটনাটি একটি মৌলিক প্রশ্নকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে—প্রশাসন কি আসলেই পেশাদার সাংবাদিকতা এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যক্তিগত কনটেন্ট তৈরির মধ্যকার সীমারেখাটি ভুলে গেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর উদাসীনতা কাজ করছে?
ঘটনাটির সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের সুযোগে দেশে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিজম’ বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জোয়ার এসেছে। কিন্তু মতপ্রকাশের এই স্বাধীনতা আর প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতা এক বিষয় নয়। জেলা তথ্য অফিস একটি দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থা। তাদের যেকোনো আয়োজনে আমন্ত্রিতদের যোগ্যতা, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং পেশাগত স্বীকৃতি যাচাই করা ন্যূনতম প্রশাসনিক কর্তব্যের অংশ। ফরিদপুর প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দাবি, আমন্ত্রিত তথাকথিত অনলাইন সাংবাদিকদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যাঁদের অতীত মাদক ব্যবসার মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কার্যালয়ের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মূল সমস্যাটি আরও গভীরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা গণমাধ্যমের কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে, কেবল একটি স্মার্টফোন আর ফেসবুক পেজ খুলে অনেকেই নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিচ্ছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অপরাধের রেকর্ড ঢাকা দিতে বা স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর ঢাল হিসেবে এই ভুঁইফোড় ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন একজন মুদি দোকানদার, ওষুধ বিক্রেতা বা সমবায় সমিতির স্বত্বাধিকারী কোনো সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রশাসনের মূল চেয়ারের পাশে বসার সুযোগ পান, তখন সমাজে অপরাধীরাই একধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি পেয়ে যায়। এই সুযোগসন্ধানীরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলে, তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে নিজেদের অনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে। একেই গ্রামীণ প্রবাদে বলা হয় ‘শর্ষের ক্ষেতে ভূত’। প্রশাসন যদি নিজেই এই ভূত পোষার হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে নাগরিক অধিকার রক্ষা ও অপরাধ দমনের পথ রুদ্ধ হতে বাধ্য।
এখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের, বিশেষ করে জেলা তথ্য অফিস এবং জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নবাগত জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি নতুন এসেছেন এবং বিষয়টি জেনে সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতদৃষ্টিতে এই বক্তব্য কূটনৈতিক মনে হলেও, এটি সাংবাদিকদের আশাহত করেছে। কারণ, স্থানীয় তথ্য অফিসের কর্মকর্তাদের তো আর নতুন আসার সুযোগ নেই। তাঁদের কাছে জেলার মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের তালিকা থাকার কথা। তথ্য অফিস যদি পেশাদার সাংবাদিক এবং অপেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে তা তাদের চরম অযোগ্যতা। আর যদি জেনেবুঝে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই আয়োজন করা হয়ে থাকে, তবে তা আরও বড় অপরাধ। প্রশাসনের এই উদাসীনতা পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা কেবল ক্ষুণ্নই করেনি, বরং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও সংকটে ফেলেছে।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও নাগরিক স্বার্থের জায়গা থেকে বিষয়টি দেখা জরুরি। সাংবাদিকতাকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি যদি সুস্থ ও কলঙ্কমুক্ত না থাকে, তবে সমাজ আলোর দিশা হারাবে। যখন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার লেবাস গায়ে চড়ায়, তখন প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রকৃত সাংবাদিকতা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ কার কাছে যাবে? কোন তথ্যের ওপর আস্থা রাখবে? বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরে যখন ব্ল্যাকমেইলিং বা হলুদ সাংবাদিকতা ডালপালা মেলে, তখন সামগ্রিক জনস্বার্থই বিঘ্নিত হয়।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। প্রথমত, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেকোনো সরকারি সভায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিল এবং তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বা স্বীকৃত প্রেসক্লাবের সদস্যপদকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিজস্ব পরিধি থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণী সভায় তাঁদের পেশাদার সাংবাদিকের মর্যাদা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জেলা তথ্য অফিসগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ করতে হবে; আমন্ত্রিতদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা বাঞ্ছনীয়।
আমরা মনে করি, ফরিদপুরের ঘটনাটি সারা দেশের জেলা প্রশাসনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সাংবাদিকতার এই অবক্ষয় এবং প্রশাসনের গা-বাঁচানো নীতি কোনো শুভলক্ষণ নয়। সুস্থ গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বার্থে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। শর্ষের ভেতরের ভূত যদি সময়মতো তাড়ানো না যায়, তবে তা পুরো সমাজব্যবস্থাকেই গ্রাস করবে। প্রশাসন কি এই সত্যটি উপলব্ধি করে দ্রুত আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটবে, নাকি ক্ষমতার অলিন্দে অপেশাদারিত্বের এই অনুপ্রবেশকে মুখ বুজে সয়ে যাবে? পাঠকের আদালতে এই প্রশ্নটিই আজ সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।