ঢাকারবিবার , ১০ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোন্দল নয়, উন্নয়ন চাই: ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘশ্বাসের শেষ কোথায়?

Doinik Kumar
মে ১০, ২০২৬ ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

 সম্পাদকীয় মন্তব্য

ঐতিহ্যবাহী ফরিদপুর জেলা বর্তমানে এক অদ্ভুত প্যারাডক্সের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে এর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক ইতিহাস, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর পদ্মা সেতুর বদৌলতে খুলে যাওয়া অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা; অন্যদিকে রয়েছে দলীয় ও উপদলীয় কোন্দলের এক দীর্ঘস্থায়ী বিষবাষ্প।
সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যে বিশৃঙ্খলা আমরা দেখলাম, তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-বরং এটি ফরিদপুরের রাজনীতির গভীরে প্রোথিত ‘নেতৃত্বের সংঘাতের’ এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
ঐতিহ্যের পিঠে সংঘাতের বোঝা
ফরিদপুরের মাটি থেকে উঠে আসা জাতীয় পর্যায়ের নেতারা একসময় দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, সেই প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই সামাল দিতে গিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে পাশ কাটিয়ে গেছেন।
স্বাধীনতার পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সিটি করপোরেশনের দাবি আজও ফাইলবন্দী। ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মধ্যকার সেই চিরচেনা দ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক শীতল লড়াই-সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফরিদপুরের উন্নয়ন। যখন একটি বিভাগ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখনই ব্যক্তিগত ইগো আর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই সেই সুযোগকে নস্যাৎ করেছে।
সম্ভাবনার দুয়ারে প্রতিহিংসার তালা
পদ্মা সেতু আজ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ফরিদপুরের দূরত্বকে কমিয়ে এনেছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক মেরুকরণ কি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পেরেছে? শামা ওবায়েদ, নায়েবা ইউসুফ কিংবা শহিদুল ইসলাম বাবুলের অনুসারীদের মধ্যে যে হট্টগোল আমরা দেখছি, তা উন্নয়নের রাজনীতির বদলে পেশিশক্তির রাজনীতিরই ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণ ফরিদপুরবাসী এখন আর মিছিলে স্লোগান দিয়ে সময় নষ্ট করতে চায় না; তারা চায় বিভাগ, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা আর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
ঐক্যবদ্ধ ফরিদপুর এখন সময়ের দাবি
ফরিদপুর কি তবে কেবল নেতৃত্বের সংঘাতের আবর্তেই আটকে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। ব্যক্তি-অহমিকা ও গোষ্ঠীতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং অনিবার্য প্রয়োজন।
আমাদের বক্তব্য
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিহার করে শিল্প ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ফরিদপুরকে তার হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনাই হোক বর্তমান নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, ইতিহাসের পাতায় কেবল তারাই টিকে থাকেন যারা সংঘাত নয়, বরং জনকল্যাণের স্বাক্ষর রেখে যান।
ফরিদপুরবাসী আর কোনো কোন্দল চায় না, তারা চায় একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ফরিদপুর।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।