নিজস্ব প্রতিবেদক, আলফাডাঙ্গা
ফরিদপুরে টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে ও বিদ্যুতের অব্যাহত আসা-যাওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেলার বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে গড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে তাদের। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে বাসা-বাড়ির দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদনেও মারাত্মক ধস নেমেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, যার ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুৎ আসার ১০ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও নাজুক। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চালের কল ও ইটভাটার উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে মজুরি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের অভাবে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না, ফলে বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে এবং ধান গাছের ডগা শুকিয়ে মরছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পিক আওয়ারে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে, তবে গ্রাহকদের ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ তারা নাকচ করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের দাবি, গড়ে ১০ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে। তবে তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের এই দ্বিমুখী যন্ত্রণায় ফরিদপুরবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
