নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালমারী
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন গত ৮ জুলাই সোতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. বিশু মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের ৫ জন আহত হন।
উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে ৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন প্রার্থী হয়েছেন। সভাপতি প্রার্থীদের মধ্যে কদমী গ্রামের আবুল কালাম মিয়া এক যুগ ধরে সাধারণ সম্পাদক ও এক যুগ ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনসহ মোট ৫৩টি মামলা হয়। বর্তমানে তাঁর নামে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার কারণে একসময় তিনি সপরিবারে ফরিদপুর শহরে অবস্থান করলেও প্রতিদিন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি ও ত্যাগ স্বীকার করেছি। ত্যাগী নেতা হিসেবে আমি শতভাগ আশাবাদী যে সভাপতি পদটি পাব।”
অপর সভাপতি প্রার্থী কদমী গ্রামের মো. মিলু মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও বিগত সরকারের আমলে জ্বালাও-পোড়াও ও অস্ত্র আইনসহ ৩৮টি মামলা হয়। দল মূল্যায়ণ করবে বলে তিনি আশাবাদী। এছাড়া কাটাগর গ্রামের মো. বিশু মোল্যা নিজেকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী দাবি করে সভাপতি পদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের ৩ প্রার্থীর মধ্যে বনমালীপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম ২০০৯ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১২ সালে ভোটের মাধ্যমে যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। উপজেলা নির্বাচনের সময় একবার গ্রেপ্তার হয়ে ৪-৫ দিন হাজত খাটলেও বর্তমানে তাঁর নামে কোনো মামলা নেই।
অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কালিনগর গ্রামের কামরুল ইসলাম ২০০৯ সাল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল করতে গিয়ে তাঁর নামে জ্বালাও-পোড়াও ও অস্ত্র আইনসহ মোট ১০টি মামলা হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এলাকা ছাড়েননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল যোগ্য মনে করলে তাঁকে পদ দেবে। অন্যদিকে, সুতালিয়া গ্রামের বাসিন্দা অরুন মন্ডল সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেও তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি।
