চরভদ্রাসনে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পদ্মা পারাপার: গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ
মো. মেজবাহ উদ্দিন, চরভদ্রাসন
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর গোপালপুর ও মৈনট ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চরম ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা নদী পারাপার হচ্ছেন। ঢাকা যাতায়াতের জন্য এই নৌরুটের অধিকাংশ যাত্রীই স্পিডবোট ব্যবহার করে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের কোনো ধরনের লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নদী পার হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরে ঘাটটি স্থানীয় কয়েকজন নেতা ইজারা নেওয়ার পর থেকেই এই সুরক্ষানীতি উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ গত কয়েক বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিয়ন্ত্রণে খাস কালেকশনে ঘাট চলার সময় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রাবণের উত্তাল তরঙ্গ, বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া খোলা স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। শুধু তা-ই নয়, প্রতিটি ১৪ আসনবিশিষ্ট বড় স্পিডবোটে গাদাগাদি করে ১৯ জন পর্যন্ত অতিরিক্ত যাত্রী বসানো হচ্ছে। পাশাপশি, যাত্রীপ্রতি আগের ১৫০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে এখন আদায় করা হচ্ছে ১৮০ টাকা। আরমান শেখ নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোট চালককে লাইফ জ্যাকেটের জন্য বারবার বললেও তিনি কোনো গুরুত্বই দেননি।” এ বিষয়ে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা জানান, লাইফ জ্যাকেট ড্রয়ারে রাখা আছে, প্রয়োজন হলে বের করা হবে।
এদিকে, একই ঘাটে লঞ্চ পারাপারেও রয়েছে চরম ঝুঁকি। ফিটনেসবিহীন ও পর্যাপ্ত বয়া ছাড়া লঞ্চে করে আধা ঘণ্টা পর পর শত শত মানুষ উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। ইজারাদার বাবুল শিকদারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন, “প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট রাখা আছে। যাত্রীরা নিজেরা চেয়ে না পরলে আমাদের কী করার আছে!” এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজের বক্তব্য নিতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বদলিজনিত কারণে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে ঘাট ইজারা নিয়ে বিপুল আর্থিক অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গোপালপুর ও মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার জানান, ২০২২ সালে তারা ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাটটি ইজারা নিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি ২০২৬ সালে ঢাকা কমিশনার অফিস নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে গোপনে স্থানীয় কিছু নেতার সাথে যোগসাজশে নামমাত্র মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা ও সঠিক দরপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে এই ইজারা প্রদান করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমলেও বর্তমানে ঘাটটি আবার সরগরম হয়ে উঠেছে, অথচ সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ইজারার নামে লুটপাট চালানো হচ্ছে।
প্রশাসন ও ঘাট কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদাসীনতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
