নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরে ‘নাগরিক আলোচনা ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির দুই পক্ষের পুরোনো কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে শহরের বাজার এলাকায় থানা রোডে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ। ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফকে বিশেষ অতিথি করা হলেও তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তবে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা এবং ফরিদপুর-৩ আসনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী আবদুত তাওয়াব বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে বিএনপির রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই শামা ওবায়েদ ও নায়াব ইউসুফের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত। এই বিরোধ মূলত তাদের প্রয়াত দুই বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান ও চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সময় থেকে চলে আসছে। মূলত শামা ওবায়েদকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য তাঁর অনুসারীরা নাগরিক কমিটির ব্যানারে এই আয়োজন করে। এর আগে গত ৭ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দুই পক্ষের সমর্থকেরা প্রকাশ্যে বিরোধে লিপ্ত হয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে নায়াব ইউসুফ সমালোচনা করে বলেন, ‘জামায়াতকে কোলে নিয়ে রাজনীতি করা বিএনপির আদর্শ নয়।’ আমন্ত্রণ পেলেও তিনি অনুষ্ঠানে যাননি বলে জানান। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল জানান, নায়াব ইউসুফকে আমন্ত্রণপত্র দিতে যাওয়া হলেও তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং পরে ফোনও ধরেননি।
অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এই ফরিদপুর আমাদের সবার। এটা কারও একার ফরিদপুর নয়।’ এদিকে, অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস ও বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া ফেসবুকে ভোট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন তাঁর কেন্দ্রের ধানের শীষের পরাজয় নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান।