হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর
দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল ফরিদপুরের সালথায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খাল, পুকুর ও ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশায় মাঠের ফসল পানিতে ছুড়ে ফেলাকেই অনেকে কম কষ্টের পথ মনে করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সালথায় ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বাজারে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ বিকোচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, অথচ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হিসাবে প্রতি মণ উৎপাদনে খরচ প্রায় ৯৬০ টাকা। কৃষকদের নিজস্ব হিসাবে এই খরচ আরও বেশি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত।
চাষি দাউদ মাতুব্বর জানান, পাঁচ-ছয় মাস সংরক্ষণের পর ওজন কমে এক মণ পেঁয়াজ ৩০ কেজিতে নেমে আসে। ফলে মৌসুম শেষে লোকসান ছাড়া কিছুই থাকে না। একই কথা বলেন আহম্মদ মাতুব্বর: “এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না।”
সালথার পাশাপাশি নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলার কৃষকরাও একই সংকটে পড়েছেন। ঋণ নিয়ে আবাদ করা অনেক কৃষকের কাছে এখন কিস্তি শোধও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর সরবরাহ আসায় দাম কমে গেছে। তিনিও স্বীকার করেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামোর অভাবেই প্রতিবছর এই সংকট তৈরি হয়। ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ১ হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ চলছে।
সালথার ইউএনও দবির উদ্দিন জানিয়েছেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যের বিষয়টি লিখিতভাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরা হবে। কৃষকদের দাবি, সরকারি পেঁয়াজ সংগ্রহ, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছর থেকে পেঁয়াজ চাষ ছেড়ে দেওয়ার পথেই হাঁটবেন তাঁরা।