স্পোর্টস ডেস্ক
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু থেকেই ছিল নাটকীয়তা, চ্যালেঞ্জ আর ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায় ভরপুর। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার এই দলটি।
বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময় দলটির খেলোয়াড়দের পরনে ছিল চিতাবাঘের নকশা করা বিশেষ স্যুট, যা তাদের ডাকনাম ‘লেপার্ডস’-কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। বিমানবন্দরেই এই পোশাক নজর কাড়ে দর্শক ও গণমাধ্যমের।
তবে সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্বাস্থ্যবিধি ও কোয়ারেন্টাইন। ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবের কারণে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয় কঙ্গোর প্রতিনিধিদলের জন্য। এতে দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে এবং কয়েকজন স্টাফ ও খেলোয়াড় পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান।
পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো ফেডারেশনকে দেশীয় ক্যাম্প বাতিল করে ইউরোপে প্রস্তুতি নিতে হয়। কিছু প্রীতি ম্যাচও স্থগিত করা হয়। এমনকি দলের বিদায় অনুষ্ঠানও সীমিত আকারে সম্পন্ন করতে হয়েছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, দলের অন্যতম জনপ্রিয় সমর্থক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক ‘লুমুম্বা’ হিসেবে পরিচিত মিশেল কুকা এমবোলাডিঙ্গা কোয়ারেন্টাইন বিধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেননি।
সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে কঙ্গো, যা দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। দলটি এবার তাদের অভিষেক ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের মুখোমুখি হবে।
কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আমরা বিশ্বকাপে ফিরেছি। যোগ্যতা অর্জনই ছিল বড় অর্জন। এখন আমাদের কাজ ভালো খেলা।’