নিজস্ব প্রতিবেদক, চরভদ্রাসন
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পার এলাকায় বেকু মেশিন দিয়ে গহীনভাবে খনন করে রাতভর ট্রাকে ট্রাক বালু মাটি পাচার করে চলেছে ভুমি খেকোরা| এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের হুমকীর মুখে রয়েছে উপজেলার রাস্তা ঘাট ও পদ্মা পারের সিসি ব্লক বাঁধগুলো| উপজেলার আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের প্রধান পাকা সড়ক ঘেষে বেকু মেশিন দিয়ে বিশাল পুকুর আকৃতি করে মাটি বিক্রি করেছেন এলাকার প্রভাবশালী জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বার (৫০)| এতে উক্ত গ্রামের প্রধান সড়ক সহ শত শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পদ্মা পারের সিসি ব্লক বাঁধটি আসন্ন বর্ষায় ভাঙনের চরম হুমকীর মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে|
তবে রবিবার দুপুরে পদ্মা পারের উক্ত মাটি পাচারকারী জুলহাস সিকদার ওরফে জুলু মেম্বারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “উপজেলার বিএনপি নেতা দীপু খান সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ভুবেš^শ্বর নদের পাড় বাঁধা মাটি ও অন্যান্য এলাকার পদ্মা পারের মাটি খনন করে রাতভর শত শত ট্রাকে পাচার করে চলেছেন| তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে ভুবেন্বশ্বর নদ খননের পার বাঁধা মাটিও নেতাকর্মীরা বিক্রি করে চলেছেন| তবে বর্তমানে বেকু মেশিনের অভাবে উক্ত মাটি বিক্রি বন্ধ আছে| শীগ্রই তারা আবার মাটি বিক্রি চালু করে ভুবেন্বশ্বর নদের পার সাফা করে দিবে| এছাড়া তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচীর উত্তোলিত নতুন মাটিও স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্রি করার জন্য জোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে| তিনি এ প্রতিবদককে প্রশ্নের সুরে বলেন, নেতাকর্মীদের ওইসব মাটি পাচারের দিকে আপনাদের কোনো খেয়াল নাই, শুধু আমার মাটি কাটার দিকে নজর পড়লো”|
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “উপজেলার আরজখার ডাঙ্গী গ্রামে পদ্মা পারে মাটি খননের খবর শুনে সাথে সাথে আমরা এসিল্যান্ডকে দিয়ে অভিযান পরিচালনা করিয়েছি| এসিল্যান্ড সরেজমিনে কাউকে না পেয়ে বেকু মেশিনের মালামাল জব্দ করেছেন| বর্তমানে ওই গ্রামের পদ্মা পারে মাটি কাটা বন্ধ আছে”|
আর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) যায়েদ হোসাইন জানান, “এলাকার কিছু লোক গভীর রাতে পদ্মা পারে মাটি কেটে পাচার করে থাকে| ওই রাতে পুলিশ সহ অন্যান্য প্রশাসন যোগাড় করা কষ্ট হয়| তবে আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের জুলু মেম্বার পাকা রাস্তার ঢাল ঘেষে মাটি খননের পর প্রশাসনিক জোর চাপের মুখে সে আর মাটি খনন করবে না বলে ওয়াদা করেছে”|
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতী, উপজেলা নেতাকর্মীদের প্রধান ব্যাবসা হয়ে দাড়িয়েছে পদ্মা পারের মাটি খনন করে তা ট্রাকে ট্রাক বিক্রি করা| প্রশাসন অভিযান চালালে ক’দিন বন্ধ থাকার পর আবারও মাটি বিক্রির ধুম লেগে যায়| উপজেলার আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারের মাটি ছাড়াও উপজেলা সদর ইউনিয়নের পদ্মা পারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে রাতভর ট্রাকে ট্রাক মাটি পাচার হচ্ছে বলে জানা যায়|
রবিবার উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আরজখার ডাঙ্গী গ্রামের এক বসতি শেখ সোবহান আক্ষেপ করে বলেন, “এ বছর যেভাবে মাসের পর মাস পদ্মা পার এলাকা খনন করে মাটি পাচার করা হলো তাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অত্র এলাকা পদ্মার ভাঙনের চরম হুমকীর মধ্যে থাকেব| তিনি আরও জানান, বার বার পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে অত্র গ্রামে একটু বাড়ী করেছি| এখন কিছু লোকের কারনে এলাকার বসতবাড়ী, রাস্তাঘাট ও সিসি ব্লক বাঁধ ভাঙনের হুমকীর মধ্যে পড়েছে”| উক্ত গ্রামের আরেক বসতি নিজামদ্দিন শেখ বলেন, “ এলাকাবাসীর আজীবন কালের চাওয়া পাওয়া হলো পদ্মা রক্ষা বাঁধ| এখন পদ্মা পার এলাকা খননের ফলে যদি সেই সিসি ব্লক বাঁধের ক্ষতি হয় তাহলে এলাকার সব পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবে| তাই তিনি পদ্মার পার এলাকা খনন ও মাটি পাচার বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানান”|