নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ চলায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন হাজারো মানুষ। বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান এই নির্মাণকাজের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ। অথচ বিকল্প কোনো সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রী, পরিবহনচালক ও ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন ভোগান্তি সহ্য করছেন।
ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই পথে চলাচল করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের পর থেকে যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে সংকীর্ণ বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ জানান, আগে যেখানে কয়েক মিনিটে বাজারে পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে ঘুরে আসতে অনেকটা সময় লেগে যায়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ও বড় ধাক্কা লেগেছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষার্থীরাও এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, সময়মতো বাড়ি থেকে বের হলেও যানজটের কারণে কলেজে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তায় চলাচল আরও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকেরা। সরু বিকল্প সড়কে বড় যান চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও দ্রুত চলাচল করতে পারছে না এই সড়কে।
পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরানোই কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচও হচ্ছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উন্নয়নকাজ দরকার আছে, তবে জনদুর্ভোগের কথা আগে ভাবা উচিত ছিল। নির্মাণ শুরুর আগেই বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। তাঁরা অবিলম্বে সাময়িক চলাচলের উপযোগী বিকল্প পথ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে কেউ জমি দিতে এগিয়ে এলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।