মো. মেজবাহ উদ্দিন, চরভদ্রাসন
“ সন্ধা নামার একটু বাকী| উত্তর-পশ্চিম আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা| রাস্তা থেকে ছাগল-বকরি নিয়ে দৌড়াচ্ছি| শিশুদের বাড়ীতে আসার জন্য ডাকাডাকি করছি| মৃদুমন্দ বিজলী চমকানোর মধ্যে হঠাৎ উত্তর আকাশ থেকে কানে ভেসে এলো ঝড়ো হাওয়ার গর্জন| মনে হচ্ছিল কোনো একটা বিপদ ঘটতে যাচ্ছে| মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বেগে একটা ঘুর্ণিপাক ধেঁয়ে আসলো| বাতাসের গর্জন শুনে ভয়ে দোয়া কালাম পড়তে পড়তে চক্ষু বন্ধ করে ছিলাম| ঝড়ো হাওয়ার প্রথম দফার আঘাতটা যেতে না যেতে চোখ খুলে দেখি বসত ভিটেয় কোনো ঘর নেই| আমাদের মাথার উপর থেকে ঘরটা উঁধাও হয়ে গেছে| প্রবল বাতাস আর ভারী বর্ষণের মধ্যে শিশুদের নিয়ে আশ্রয় খোঁজার জন্য ঝুকলাম| আগ বাড়াতেই শূন্য ভিটের উপর মান্দার গাছটা চোখের সামনে ভেঙে পড়লো| বসত বাড়ী সংলগ্ন কাচা রাস্তার বিপরীত পাশে পদ্মা পারে বাঁধা নৌকার দিকে তাকিয়ে দেখি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন মাছ ধরার নৌকাটিও ডুবে গেলো| একটি ঘুর্নি পাকেই চোখের সামনে পরিবারের সবকিছু তছনছ হয়ে গেলো| পরে সর্বস্ব হারিয়ে ঝড়ো হাওয়ার বেগ পারি দিয়ে জান বাচাঁবার আশায় শিশুদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম পাশের বাড়ীতে”|
এভাবেই কাল ˆবশাখীর তান্ডব বিড়বিড় করে বর্ণনা করেছিলেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী গ্রামের পদ্মা পারের বসতি হত দরিদ্র কামাল খানের স্ত্রী জোসনা আক্তার (৪০)| গত বুধবার বিকেলে কাল ˆবশাখীর তান্ডবে একমাত্র বসত ঘর, ভিটের গাছপালা ও মাছ ধরার নৌকা হারানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত গৃহিনী কাল ˆবশাখীর ভয়াবহতা বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজের চোখ ভিজিয়ে ফেলেন|
ঝড়ের পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেছেন| তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে খোলা আকাশের নিচে বসবাসরত কামাল খানের পরিবারে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ তিন হাজার টাকা পৌছে দিয়েছেন| এছাড়া কাল ˆবশাখীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পার্শ্ববতী বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও জোসনা মৃধার পরিবারে আরও এক বান্ডিল সহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে মোট চার বান্ডিল ঢেউটিন পৌছে দিয়েছেন ইউএনও|
এসব ঢেউটিন বিতরনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজ বলেন,“ উপজেলায় কাল ˆবশাখীর তান্ডবে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে দুই বান্ডিল ঢৈউটিন ও নগদ টাকা এবং কম পরিমান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে তালিকা করে এক বান্ডিল করে ঢেউটিন দেওয়া হবে”|
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকস্মিক কাল ˆবশাখী ঝড়ের তান্ডবে উপজেলার ১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে| ফসলী মাঠের প্রায় ৫০ একর কলা বাগানের গাছগুলো উপড়ে রয়েছে এবং প্রায় ৮০ একর ভূট্টা ফসল বিনষ্ট হয়েছে| এছাড়া উপজেলার প্রচুর পরিান ফলজ ও বনজ বৃক্ষাদি সহ ˆবদ্যতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে|