মো. মেজবাহ উদ্দিন, চরভদ্রাসন
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর কাজী বাড়ীর ঘাট নামক জলমহাল এলাকায় আটকা পড়েছে প্রায় ৭ ফুট ল¤^াকৃতির একটি কুমির| আজ সোমবার ভোর ৬ টায় জেলেদের হাজারী বরশিতে জড়িয়ে কুমিরটি আটকে পড়ে| পরে পাঁচজন জেলে জোর চেষ্টা চালিয়ে মাঝ পদ্মা নদী থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে ডাঙায় আনা হয়| পরবর্তিতে কুমিরটিকে পদ্মা পারের অল্প পানিতে খুটির সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে| এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পদ্মা পারে উৎসুক জনতার ভির লেগেই আছে|
কুমির আটকের খবর পেয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলে করিম ডিউক ও চরভদ্রাসন থানার এসআই কাজী রিপন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পদ্মা পারে অবস্থান করে কুমিরটিকে নিরাপদ হেফাজতে রেখেছেন বলে জানা গেছে|
সোমবার দুপুরে উপজেলা বন কর্মকর্তা ফজলে করিম ডিউক জানান, “আটককৃত কুমিরটিকে পদ্মা পারে অল্প পানিতে বাঁশের খুটি পুতে বেঁধে রাখা হয়েছে| এখন পর্যন্ত কুমিরটি নিরাপদ ও সুস্থ্য আছে| খুলনা থেকে বন্যা প্রানী টিম আসলে কুমিরটিকে পানি থেকে তুলে আমরা তাদের হাতে সোপার্দ করবো”|
জানা যায়, উপজেলা সদরে পদ্মা নদীর উক্ত ঘাটের জল সীমানায় বড় বড় বাঁশ পুতে প্রতিদিন জেলেরা হাজারী বরশিতে মাছ ধরে থাকে| বেশরিভাগ জেলেরা রাতভর বরশি ফেলানোর পর ভোররাতেই বরশি থেকে মাছ ছাড়িয়ে আনেন| এদের মধ্যে সাগর বেপারী (৪৫) নামক এক জেলে তার বরশি থেকে মাছ ছাড়াতে গিয়ে দেখেন যে বিশাল এক কুমির হাজারী বরশিতে আটকে রয়েছে| এ সময় সে সৌর চিৎকার করে অন্যান্য জেলেদের একত্রিত করে পাঁচজন জেলে মিলে বিশেষ কৌশলে কুমরিটির ঘাড়ে মাজায় ও মাথায় বেঁধে ফেলেন| পরবর্তিতে কুমিরটিকে পদ্মা নদীর বড় নৌকার সাথে বেঁধে ঘাটপারে আনা হয় এবং প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়|
কুমির আটককারী জেলে সাগর বেপারী জানান, “ কুমিরটি তার হাজারী বরশিতে আটকের পর ঝাড়া পেরে তার প্রায় ষোল হাজার টাকার বরশি বিনষ্ট করে ফেলেছে| ক’য়েক কি.মি. জুড়ে পদ্মা নদীতে পাতা সব বরশি কুমিরের ঝাকিতে থুপিয়ে বিনষ্ট হয়েছে”|