নিজস্ব প্রতিবেদক ■
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী সরদার জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও তিনি এবং তার স্ত্রীর নামে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থ দিয়ে তিনি ফরিদপুর শহরের অভিজাত এলাকায় আলিশান ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরদার জালাল উদ্দিন ১৯৯৪ সালে ভোলা সদর হাসপাতালে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং প্রয়োজনীয় পদোন্নতি ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে উচ্চতর বেতন স্কেল ও পদ বাগিয়ে নেন। বিধি অনুযায়ী ১৬তম গ্রেড থেকে ১৪তম গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সরাসরি ১৩তম গ্রেডে প্রধান সহকারী হিসেবে পদায়ন নেন। এই জালিয়াতি আড়াল করতে তিনি বিভিন্ন সময় রাজবাড়ী ও ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস এবং মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হন। বর্তমানে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সরদার জালালের অর্জিত সম্পদের বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি ফরিদপুর শহরের আলীপুর ও গোয়ালচাম মৌজায় এবং কৈজুরী ইউনিয়নের মংগলকোর্ট মৌজায় কয়েক একর জমি ক্রয় করেছেন। এ ছাড়া ফরিদপুর শহরের অনাথের মোড়ে অবস্থিত ‘বর্ণমালা ৯’ ভবনের চতুর্থ তলায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন তিনি। একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী যার মূল বেতন মাত্র ২৬ হাজার ১০০ টাকা, তার পক্ষে এত স্বল্প সময়ে কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা জমা রাখা নিয়ে সাধারণ জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন জালাল। তার এই মদদে অনেক মানহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় জেলায় অপচিকিৎসার ঝুঁকি বাড়ছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তার দুর্নীতির বিষয়ে অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে নগরকান্দা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এমন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অবিলম্বে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।