নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. ইনামুল হক খান। তিনি উপজেলার ৩৯ নম্বর টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের টিন, ইট ও অন্যান্য মালামাল সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি, নিলাম কিংবা যথাযথ মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা ঘর দুটির মালামাল ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন।

গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ঘরের মধ্যে একটির সম্পূর্ণ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই ঘরের ইট নসিমনে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। অপর ঘরটির টিনের চালা ও বেড়াও খুলে নেওয়া হয়েছে।

ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকড়পুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খানের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় ঘর দুটির ইট কিনেছেন। গত তিন দিন ধরে ইটগুলো ভেঙে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বলেন, ঘর ভাঙা কিংবা মালামাল বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে ঘরগুলোর মালামাল বিক্রি করেছেন। তাঁর দাবি, ইট বিক্রি হয়েছে ১৯ হাজার টাকায়, টিন ১৫ হাজার টাকায় এবং কাঠকুটিসহ অন্যান্য মালামাল ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কাজ করা তাঁর ঠিক হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান প্রথমে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে তিনি বলেন, ঘরগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো ভাঙারির কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছেন। আগামী রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এম. তৈফিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আগামী রোববার তদন্তের জন্য উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।