নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তি, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে ফরিদপুরে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী চতুর্দশ জাতীয় বিতর্ক উৎসব। গত শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় কবি জসীমউদ্দীন হলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামে। ফরিদপুর ডিবেট ফোরাম (এফডিএফ) আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিতার্কিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা অংশ নেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ সময় তিনি ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘মহা কোলাহলে আরম্ভ হলো দিনের মহোৎসব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের চূড়ান্ত বিতর্ক, পুরস্কার বিতরণী ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা মফিজ সৃষ্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অকোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন এবং ফরিদপুর জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রাব্বানী ভূঁইয়া রতন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম হিমালয়।

উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি শাখায়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ফরিদপুরের ২৬টি স্কুল দল, ১২টি কলেজ দল এবং উন্মুক্ত বিভাগে ১৬টি দল অংশ নেয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকেরা যুক্তি, জ্ঞান ও মননশীলতার চর্চায় অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, এ উৎসব শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য। দুই দশকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ বিতর্কচর্চার পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে এবারের আয়োজন করা হয়েছে।

এবারের উৎসব পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের প্রতি উৎসর্গ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।