কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন তার বোন ড. উজমা খান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দ্রুত শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে দ্বিতীয়বারের মতো আবেদন করেছেন তিনি।
গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ইমরানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করে। আদালত তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকার পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতাকে সেখানে না নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারি হাসপাতাল ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’-এ নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে তাকে আবারও কারাগারে ফিরিয়ে আনে।
গত সপ্তাহে আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন উজমা। মঙ্গলবার পিটিআই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদনটি পুনরায় জমা দেয় এবং একই সঙ্গে উজমা আদালত অবমাননার আবেদনের দ্রুত শুনানির জন্য আরেকটি আবেদন দাখিল করেন।
গত ২৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানির তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছিল। ওই দিন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, বিচারপতি নাঈম আখতার আফগান এবং বিচারপতি ইশতিয়াক ইব্রাহিমকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ মামলাটির শুনানি পুনরায় শুরু করবে। উল্লেখ্য, এই বেঞ্চটিই ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।
আইনজীবী উজাইর কারামত ভান্ডারির মাধ্যমে দাখিল করা নতুন আবেদনে বর্তমান সপ্তাহেই অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদালত অবমাননার এই আবেদনের উদ্দেশ্য হলো ১৮ আগস্টের আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা নিশ্চিত করা। আবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত শুনানি হলে তা ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা, জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এর প্রতিফলন ঘটবে। আবেদনপত্রে ইমরান খানের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর বিষয়টি শুনানির সিদ্ধান্তটি কি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বা প্রধান বিচারপতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবেদনে বলা হয়েছে, যদি আগের বিষয়টি সত্য হয়, তবে মামলাটি ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে চলতি অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই শুনানির জন্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের কার্যালয় জানিয়েছিল, আদালত অবমাননার আবেদনের দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়। কারণ একই ধরনের ৯৪টি পৃথক মূল ফৌজদারি আবেদন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কার্যালয়টি জানিয়েছিল, মামলা নির্ধারণের নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে মামলার ক্রম বা পালা অনুযায়ী শুনানির তারিখ ঠিক করা হয় এবং সেই হিসেবে আদালত অবমাননার মামলাটির পালা আসার সম্ভাবনা কম।
এদিকে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি পাঠিয়েছেন কপিল দেবসহ বেশ কয়েক জন কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
সূত্র: ডন।