রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের কাগজ হাতে পাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তানভীর রণক (২৮) নামে এক যুবক দুই দফায় কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

তানভীর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের ছেলে।

পরিবারের স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৯ আগস্ট রাজবাড়ী আদালতে ফাতেমা (২৩) নামে এক তরুণীর সঙ্গে তানভীরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকা ও টাঙ্গাইলে অবস্থান করেন। পরে ফাতেমার পরিবারের অনুরোধে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তানভীরের স্বজনদের অভিযোগ, বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর ফাতেমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তানভীরের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার আশায় তানভীর ওই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। এমনকি ৭ শতাংশ জমি বিক্রির দলিল করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যেই তার কাছে তালাকের কাগজ পাঠানো হয়।

পরিবারের ভাষ্য, রোববার রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তানভীর প্রথমবার কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে যশোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে আবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোবাইল ফোনে স্ত্রী পক্ষের পাঠানো তালাকের কাগজ দেখতে পান তানভীর। বিষয়টি জানার পর তিনি আরও ভেঙে পড়েন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে তিনি আবার কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্ত্রী পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার  বলেন, এরকম একটি খবর আমরা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ কোনো পক্ষ থেকেই এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।