ভারতের কাছ থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর কোনোভাবেই জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় আঘাত এসেছে। এ বিষয়ে সরকার একটি প্রেস রিলিজ দেওয়া ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি-দখলবাজি এবং বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের অপরিকল্পনা, দুর্নীতি ও লুটপাটকে দায়ী করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে, জ্বালানির দাম কমাতে না পারলে এবং চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি করতে ব্যর্থ হলে তাদের ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।

বাজেটের পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি- সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা একের পর এক মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। সংবিধান সংশোধন কমিটির নামেও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এ কারণে বর্তমান সরকারকে ‘প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতক সরকার’ বলা যায়। একই সঙ্গে যাদের অর্থে তারা নির্বাচন করেছিল, এখন তাদের হাতেই দেশের সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদের কথা বললেও সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি। ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি ও আরিফুল ইসলাম আদীব, এনসিসির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।