পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম। রক ব্যান্ড ‘জল’-এর জনপ্রিয় গান ‘আদত’ দিয়ে সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর একক ক্যারিয়ারেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছান তিনি।
২০০৪ সালে প্রকাশিত তার অ্যালবাম ‘জলপরী’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। পরবর্তী সময়ে বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় গান গেয়ে ভারতীয় শ্রোতাদের কাছেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই শিল্পী।
তিনি জানান, ভারতে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। এটি ভারত সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানান এই গায়ক।
তবে ভারতে কাজ করতে না পারলেও সেখানকার অনুরাগীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়নি বলে জানান আতিফ।
ভারতীয় অনুরাগীদের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আতিফ জানান, গত এক দশকে সেখানে কোনো গান গাওয়ার সুযোগ না পেলেও তার গান এখনো শ্রোতারা শুনছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ভক্তদের কেউ কেউ ভিপিএনের মাধ্যমে তার গান শোনেন। এমনকি পুরোনো গান সিডি থেকে কপি করে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় অনুরাগীদের মন খারাপ করারও কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন আতিফ। বরং তিনি নিজেই সেখানকার মানুষ ও ভক্তদের খুব মিস করেন বলে জানান।
ভারতে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আতিফের উপলব্ধি কিছুটা ভিন্ন। তিনি জানান, সেখানে কাজ করার সুযোগটি তিনি মিস করেন না; তবে ভারতীয় মানুষ ও অনুরাগীদের অবশ্যই মনে পড়ে তার।
আতিফের কথায়, এই নিষেধাজ্ঞা তাকে নিজের সংগীত তৈরির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য এক ধরনের আত্ম-অন্বেষণের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন তিনি।
তার মতে, এই পরিস্থিতি তৈরি না হলে হয়তো নিজেকে আরও ভালোভাবে চেনার সুযোগ পেতেন না। যারা তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই পাকিস্তানি গায়ক।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের উরি জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি আরও তীব্র হয়। ওই সময় ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন পাকিস্তানি শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে প্রস্তাব পাস করে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছিল।
এরপর ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে পাকিস্তানি অভিনেতা ও শিল্পীদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করে।
এর ফলে আতিফ আসলামসহ পাকিস্তানের একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর বলিউডে কাজের পথ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।