হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর
ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে একদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, অন্যদিকে যানজটও তীব্র হচ্ছে।
সম্প্রতি শহরের জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড় ও টেপাখোলা সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে বসেছে ভাসমান দোকান। কোথাও ফল, কোথাও চা, পোশাক, জুতা কিংবা সবজির অস্থায়ী দোকান। অনেক স্থায়ী দোকানদারও ফুটপাতে পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আলীপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই বললেই চলে। বাধ্য হয়ে সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, কলেজে যাতায়াতের সময় দোকান ও ক্রেতার ভিড় এড়িয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। গোয়ালচামট এলাকার গৃহিণী নাসরিন বেগমের ভাষ্য, শিশুদের নিয়ে চলাচল সবচেয়ে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, মানুষ রাস্তায় হাঁটায় যানজট ও ছোটখাটো দুর্ঘটনা বেড়েছে।
তবে কয়েকজন ভাসমান ব্যবসায়ী জানান, বিকল্প জায়গা না থাকায় জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। যদিও এতে পথচারীদের ভোগান্তির বিষয়টি তারা স্বীকার করেন।
ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, শুধু উচ্ছেদ নয়, ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন, আইনগত ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আবরার নাদিম ইতুর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণ—দুই উদ্যোগই একসঙ্গে নিতে হবে।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, পৌরসভা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।