ঢাকাশনিবার , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাঙ্গায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান সিলগালা

Doinik Kumar
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

57

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ‘আলোর দিশা’ নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে কেন্দ্রের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত লোকজন সকালেই পালিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া ৪০/৫০ জন রোগী সেখান থেকে বের হতে ভেতরের সবকিছু ভাঙচুর চালায়।

শুক্রবার সকালে দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার নওপাড়া গ্রামে অবস্থিত আলোর দিশা নিরাময় কেন্দ্রে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে নিরাময় কেন্দ্রের ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয়।

নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর উপজেলার পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরো বেগতিক হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ভর্তি হওয়া রোগীরা বের হতে জানালা দরজাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর চালিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। তখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়। পরে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন, পুলিশ, রোগীর স্বজনেরা  ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রোগীদের কিছুটা শান্ত করা হয়। এরপর প্রায় ৫/৬ ঘণ্টাব্যাপী ভর্তি হওয়ার রোগীদের চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শুনে এলাকায় শতশত লোকজন ভীড় করেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে নিরাময় কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানে ভর্তি থাকা প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ৩০ জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকিদেরকে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে রিহ্যাবে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

নিহত রাজ্জাক মাতুব্বরের ভাইয়ের অভিযোগ, ‘গত মঙ্গলবার রাতে আমার ভাই রাজ্জাক মাতুবেরকে এখানে ভর্তি করি। সে কিছুটা বাড়িতে পাগলামি করতো এবং নেশায় আসক্ত ছিল। আজ সকাল ৯টার দিকে আমাদেরকে সংবাদ দেয় রাজ্জাক অসুস্থ। সংবাদ পেয়ে আমরা সাথে সাথে ভাঙ্গা হাসপাতালে এসে আমার ভাইয়ের লাশ দেখতে পাই। লাশের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার ভাইকে রিহ্যাব সেন্টারের মালিক মিজানুরসহ তার লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি অন্যান্য রোগীদের অভিযোগ, তাদেরকে তিনবেলা খাবারের বদলে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হতো। প্রতিবাদ করলে তাদের খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতো। এমনকি রোগীর বাড়ি থেকে কোনো খাবার তাদের জন্য আনা হলে সে খাবার নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন খেয়ে ফেলতো। শুক্রবার রাতে রাজ্জাককে বেধড়ক মারধর করার পর সে আজ মারা যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান মিজানুর রহমান ও তার স্ট্যাফদের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার দাবি করেন তারা।

ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার জানান, মোট ৫০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং বাকিদের ফরিদপুর রিহ্যাব সেন্টারে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ভাঙ্গা এসিল্যান্ড ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়ামের নেতৃত্বে  প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজোয়ান দিপু জানান, এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা হাসপাতাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করার ময়নাতদন্তের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের শরীরে বেশ কিছু দাগ রয়েছে এবং নাক কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।