সেনাবাহিনী ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক অভিযানে একের পর এক ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে তাদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং কোতয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
পরে তাকে কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণামূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে চাঁদাবাজি
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিষাণহাট এলাকায় ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার সাংবাদিক বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ জনগণকে হয়রানি ও প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তাররা কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানারে না থেকে নিজেদের সুবিধামতো কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় ব্যবহার করতেন। এসব ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে তারা বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল।
বিশেষ ধারায় মামলা
ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে বিশেষ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর আরেকটি অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরো একজন ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সেনাবাহিনী ও সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে প্রকৃত সাংবাদিকতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা ও চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
