নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এবছরে চরাঞ্চলে বিউটি প্লাস হাইব্রিড টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষে কৃষকেরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন; মাচা পদ্ধতি, উন্নত বীজ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে টমেটো চাষের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, সঠিক দিক নির্দেশনা এবং উন্নত বীজ ব্যবহারের কারণে ভালো ফলন হয়েছে। হাইব্রিড জাতের টমেটো বিউটি প্লাস আবাদে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকার মতো।
হাইব্রিড জাতের টমেটো যেমন বিউটি প্লাস আবাদ করে কৃষকের প্রতি বিঘায় টমেটোর ফলন প্রতি তোলায় ১০০ থেকে ১২০ মণ করে হচ্ছে। বাজারে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকেরা।
কৃষক শারজাহান শেখ জানান, ‘এবার মাচা পদ্ধতিতে হাইব্রিড বিউটি প্লাস টমেটো চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে আর বাজারে ভালো দামও পাচ্ছি। প্রতি কেজি টমেটো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এবার আমি আধুনিক পদ্ধতিতে পাঁচ বিঘা জমিতে হাইব্রিড টমেটো আবাদ করেছি। হাইব্রিড টমেটো আবাদে খরচ কম, লাভ বেশি।’
কৃষক পরশ শেখ ও আয়ুব আলী জানান, ‘আমি এবছর আমার ছয় বিঘা জমিতে হাইব্রিড বিউটি প্লাস আগাম জাতের টমেটো আবাদ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে টমেটোর ফলন হচ্ছে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ মণ করে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো শুরুতে বিক্রি করেছি ১০০ টাকা, ৯০ টাকা আর এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। এতে আমরা কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছি। ঘর খরচ বাদ দিয়ে এবার অনেক টাকা লাভ হবে আশা করা যাচ্ছে।’
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রায়হানুল হায়দার মুঠোফোনে জানান, এই উপজেলার কৃষকেরা আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। এ বছরে গোয়ালন্দ উপজেলায় ২১৬ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে।
