নিজস্ব প্রতিবেদক, শরীয়তপুর
শরীয়তপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি জনবহুল উপজেলা ভেদরগঞ্জ। এ উপজেলার ৩ লাখেরও বেশি মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চালক না থাকায় এই হাসপাতালে গত পাঁচ মাস ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী পরিবহনের জন্য কয়েক বছর আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর থেকে আ্যাম্বুলেন্সটি প্রতিনিয়ত রোগী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল। গত ২৩ জুন অ্যাম্বুলেন্সটির চালককে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর থেকেই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগের বিষয়টি তারা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে ওপর মহলে জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি।
২৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চর পায়াতলী এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি

সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পথচারীরা চার কিশোরকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে এসে আহত রোগীর ভাই জানতে পারে অ্যাম্বুলেন্সটির ড্রাইভার নেই। বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আহতের পরিবারের সদস্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি জেলা সদর থেকে ভেদরগঞ্জ পৌঁছাতে অনেকটা সময় চলে যায়। এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঢাকায় নেওয়ার পর আহত রোমান (২২) মারা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের সামনে কথা হয় রোগীর স্বজন কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান,
গতকাল মাঝরাতে তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নিতে পারেননি। পরে রিকশায় করে হাসপাতালে আনতে হয়েছে। হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
সখিপুর থেকে বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে এসেছেন মেয়ে মারুফা বেগম। গত শনিবার সকালে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার বাবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে গিয়ে শুনলাম অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। পরে লোকজন মিলে মোটরসাইকেলে করে বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এতে আমার বাবার খুব কষ্ট হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স চালক থাকলে হয়তো এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।’
এদিকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে দালাল চক্র অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা জোরপূর্বক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। ভেদরগঞ্জ থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় যেতে ৪৫০০ টাকা ভাড়া লাগলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ৮-৯ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকার বিষয়টি তিনি জেলা সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয়েও চারবার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিকার মেলেনি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আব্দুল্লাহ খান বলেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে নতুন কোনো চালকের পোস্টিং হচ্ছে না জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। শিগগিরই ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চালকের পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেবেন তিনি।
