সিআইডি পরিচয়ে এক নারীকে অপহরণ করতে গিয়ে মাগুরার শ্রীপুরে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সাতজন। পুলিশ বলছে, ওই নারীকে অপহরণের জন্য তার দ্বিতীয় স্বামী শিমুল হোসেনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় সন্দেহজনক নোহা মাইক্রোবাস ঘোরাফেরা করতে দেখে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাদের কাছ থেকে সিআইডি লেখা জ্যাকেট, খেলনা পিস্তল, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে ওয়াপদা বাজার এলাকায় নৈশকালীন ডিউটির সময় নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি নোহা মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে।
পরে নাকোল ক্যাম্পের এসআই মো. আবদুল মালেকসহ পুলিশের একটি দল রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের হাতেনাতে আটক করে। এতে ওই নারীকে অপহরণের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
আটকরা হলেন- ঝিনাইদহ সদর থানার পাগলাখানা এলাকার মৃত আফজাল হোসেনের মেয়ে মোছা. আসমা খাতুন (৩১), পাবহাটি এলাকার মো. আবদুর রশীদের ছেলে মো. হাসানুজ্জামান হাছান (২৮), পাগলাখানা এলাকার মো. সাহাউদ্দিনের ছেলে মো. ওসমান গনি (২৫), আরবপুর এলাকার মো. আবদুল করিমের ছেলে সালমান সাহ (২৫), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার কালিঘাট পাঁচমাথা এলাকার মো. রবিউল ইসলামের ছেলে মো. ছাব্বির হোসেন (২২) বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর থানার পাগলাখানা এলাকার ভাড়াটিয়া, ঝিনাইদহ সদর থানার আড়মুখ (নলডাঙ্গা রাজবাড়ি) এলাকার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. সাকিব (২৩) এবং মাগুরার শালিখা থানার দেবিলা এলাকার মো. নাজিম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মো. আল আমিন হোসেন (২২)।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, যে নারীকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছিল, তার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি শিমুল নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে তার সঙ্গে সংসার করছিলেন। কিছুদিন আগে প্রথম স্বামী তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর দ্বিতীয় স্বামী শিমুল হোসেন ওই নারীকে অপহরণের জন্য সাতজনকে পাঁচ লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়া করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই সাতজন ঝিনাইদহ জেলা থেকে একটি নোহা মাইক্রোবাস নিয়ে এসে গত রাতে ওই নারীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি নজরে নেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আটক সাতজনসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় শিমুল হোসেনকে আসামি করা হবে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক সাতজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।