ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা এবার চরম বিপাকে পড়েছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের প্রত্যাশা থাকলেও পবিত্র রমজানের আগে হঠাৎ বাজারে পেঁয়াজের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।
শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার বালিয়া বাজারের পেঁয়াজের হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে বিক্রেতার ভিড় থাকলেও ক্রেতা ছিল কম। দৈনন্দিন খরচ ও ঋণের টাকা পরিশোধের তাগিদে অনেক কৃষক লোকসান দিয়েই পেঁয়াজ বিক্রি করে মলিন মুখে বাড়ি ফিরছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি- সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
বর্তমানে বাজারে প্রতি মণে তাদের ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। বালিয়াগট্টি গ্রামের কৃষক জসিমউদ্দিন ও শফিকুল জানান, ন্যায্য মূল্য না পেলে ভবিষ্যতে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যা দেশের উৎপাদন কমিয়ে আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে দেবে।
বালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। বর্তমানে ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে, যাতে ব্যবসায়ীদেরও লোকসানের ঝুঁকি থাকছে। তিনি মনে করেন, প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা হলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই লাভবান হতো।
সালথা সদরের পাশাপাশি নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, কাগদি ও মাঝারদিয়াসহ বিভিন্ন হাটে নিয়মিত পেঁয়াজের বেচাকেনা চললেও দরপতনের কারণে চাষিদের চোখে-মুখে কেবল দুশ্চিন্তার ছাপ।
কৃষকদের দাবি, ধান বা গমের মতো পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে হিমাগার নির্মাণ করা প্রয়োজন যাতে তারা ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, বাজারে বর্তমানে চাহিদা কম থাকায় দাম কমেছে। অনেক কৃষক ধারের টাকা শোধ করতে গিয়ে লোকসানে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে সম্ভব হলে কৃষকদের উচিত পেঁয়াজ কিছুদিন সংরক্ষণ করা, যাতে পরবর্তীতে দাম বাড়লে তারা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেন।
