শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নে মাছ চুরির অপবাদে সেলিম পাইক নামে এক প্রতিবন্ধী ও এতিম যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ইকরি এলাকায় জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শাহিন মাদবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শাহিন মাদবর ও তাঁর সহযোগীরা মিলে সেলিম পাইককে যেভাবে পিটিয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। পুরো দেশবাসী এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও দেখেছে।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জামাল হোসেন জানান, প্রতিবন্ধী সেলিম পাইককে পুরোপুরি সুস্থ না করা পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসার ব্যয় এবং পুনর্বাসনের দায়িত্ব শাহিন মাদবরকেই নিতে হবে। প্রশাসনকে অতি দ্রুত আসামিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মৎস্য খামারে মাছ ধরা বন্ধ রাখার দাবিও তোলা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেলিম একজন অসহায় ও এতিম ছেলে। তাঁকে রাস্তায় কুকুরের মতো পেটানো হয়েছে। তাঁরা এই সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ নারীরা অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে বয়কট করারও ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠান শেষে আরমান নামে এক বক্তা অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই মানবিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত শাহিন বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে এলাকায় একটি মাফিয়া অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
বক্তারা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে জানান, অতিসত্বর এই ঘটনার বিচার না হলে আন্দোলন রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে। এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত মূল হোতাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
