গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনমানসের প্রত্যাশা ও সরকারের অঙ্গীকার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
শুক্রবার দুপুরে মাদারীপুরের মোস্তফাপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এদেশের মানুষ এখন আর গতানুগতিক ধারার রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নয়; তারা প্রকৃত পরিবর্তন চায়।
তাঁর বক্তব্যে জুলাই মাসের সেই ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী বিপ্লব এবং জনগণের যে সুদৃঢ় প্রতিরোধ বিশ্ব দেখেছে, তার মূল শিক্ষা হলো জনগণ এখন আর শাসক নয়, বরং সেবক চায়। মানুষ এমন নেতা চায় যারা মাটির কাছাকাছি থেকে তাদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হবে। রাজনীতির প্রধান শর্ত হতে হবে জবাবদিহিতা। কোনো কাজ কেন করা হলো বা কেন হলো না তা জনগণকে জানানোর সংস্কৃতি শুরু করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাইয়ের চেতনা আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করতে এবং সেই চেতনাকে ধারণ করেই নতুন রাজনীতির কাঠামো গড়তে হবে বলে তিনি জানান। সামনে জাতীয় পর্যায়ের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া বইছে।
প্রতিমন্ত্রী নুর নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, শুধু ওপরতলার রাজনীতি করলে চলবে না। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হতে হলে তাদের দুয়ারে যেতে হবে। আপনারা যেভাবে জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রতিটি মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে স্থানীয় নির্বাচনেও মানুষের কাছে যেতে হবে। জনগণের প্রতিনিধি হওয়া মানে ক্ষমতা ভোগ করা নয়, বরং তাদের সেবা করার সুযোগ নেওয়া এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া টেকসই রাজনীতি সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকার জনগণের অর্থনৈতিক সংকট লাঘবে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর কথা বলেন। তিনি বিশেষ করে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে মাসিক ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে চাই। ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড নয়, এটি বিপদে পড়া মানুষের প্রতি সরকারের মমত্ববোধের প্রতীক বলে তিনি জানান।
শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে নুরুল হক নুর প্রবাসীদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রবাসীরা দেশের প্রতি যে আস্থা দেখিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে তাদের রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিদেশে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক ছাত্রনেতা থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া নুর মূলত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন।
