ঢাকাসোমবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইতিহাসের মুখোমুখি আমরা

Doinik Kumar
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ৮:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

32

রক্তের অক্ষরে লেখা এক মহাকাব্য আর ত্যাগের আগুনে গড়া এক মানচিত্রের নাম—বাংলাদেশ। ১৯৭১ ক্যালেন্ডারের পাতায় কোনো সাধারণ সময় নয়; এটি বাঙালির দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ততই সেই জন্মের ইতিহাসকে ঘিরে বিতর্ক, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে ইতিহাসের সঠিক উপস্থাপন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের ব্যাখ্যা বদলে যাওয়ার একটি প্রবণতা বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের। যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারা প্রায়ই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ, নেতৃত্বের ভূমিকা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদান উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। এর ফলে পাঠ্যপুস্তক, গণমাধ্যম বা জনপরিসরে ইতিহাস কখনো কখনো একপাক্ষিক বা খণ্ডিত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই কেউ কেউ আজ ‘নতুন ইতিহাস’ রচনার কথা বলছেন। ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে ’৭১-এর অর্জনের চেয়েও বড় করে দেখানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনো কোনো মহলে ১৯৭১-এর মূল চেতনাকে আড়াল করার বা পরাজিত মতাদর্শকে পুনর্বাসনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক সাম্য। অতএব, এই মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যেকোনো উদ্যোগ জাতির ঐক্য ও অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা নয়; এটি জাতীয় মূল্যবোধ ও ইতিহাসের সঠিক ধারাবাহিকতা রক্ষারও পরীক্ষা। জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা ইতিহাসের বিকৃতি বা খণ্ডিত ব্যাখ্যার পথে যাবে, নাকি ৩০ লাখ শহীদ ও অসংখ্য ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্রের মূল চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।

এই ভোট কেবল ক্ষমতা বদলের নয়; বরং এটি ইতিহাসের সত্যতা রক্ষা এবং মূল্যবোধ বেছে নেওয়ার সুযোগ। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র জাতির অবিনাশী চেতনা। রাজনৈতিক ঘটনা যেমন ’২৪ বা ’৯০ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু ’৭১ জাতির জন্মের অটল সত্য—এটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে।
যারা ’৭১-কে খাটো করার বা অস্বীকার করার চেষ্টা করে, তারা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই জাতির সামনে পথ একটাই—সতর্কতা, সংহতি এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এই চেতনা বিস্তার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসের বিকৃতি বা খণ্ডিত উপস্থাপনার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, যার হাতে ইতিহাসের নিয়ন্ত্রণ, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও তার হাতেই থাকে।
বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা সচেতন ও প্রাজ্ঞ। আশা করা যায়, বর্তমান সংকটেও তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সব ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তির ঊর্ধ্বে রাখবে। এই দেশের জন্ম হয়েছিল সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই স্মৃতিকে বিকৃত করার অধিকার কারও নেই।

আমাদের দায়িত্ব এই চেতনাকে চিরপ্রজ্বলিত রাখা, যাতে বাংলাদেশ তার জন্মকথার আলোয় উদ্ভাসিত থাকে। কারণ, ’৭১ কেবল একটি সাল নয়—’৭১ হলো বাংলাদেশের হৃৎস্পন্দন।

 

 লেখক:মো. মাহবুবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,ইংরেজি বিভাগ ফরিদপুর সিটি কলেজ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।