নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলেও একে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন।
সোমবার রাতে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি মুক্তিযুদ্ধ, শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং আসন্ন ভোটকে কেন্দ্র করে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর কেউই জনগণের প্রতি পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি।
তিনি দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার জন্য বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশ থেকে অর্থ পাচার বেড়েছে।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তিনি গণভোটকে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সব নাগরিক সমান থাকবে এবং ধর্ম বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জামায়াত আমির মাগুরার দুটি সংসদীয় আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। মাগুরা এক আসনে আবদুল মতিন এবং দুই আসনে এম বি বাকেরকে উপস্থিত জনতার সামনে তুলে ধরে তাদের সমর্থনে ভোট চান তিনি।
জেলা জামায়াত আয়োজিত এ সমাবেশে দলটির পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন
