ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দলীয় অন্ধত্ব নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: দেশপ্রেমের মূলমন্ত্র

Doinik Kumar
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৭:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

185

মো. মাহবুবুর রহমান

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান আলোচনা–সমালোচনার প্রেক্ষাপটে একটি পরিচিত মন্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কার্যকলাপের গঠনমূলক সমালোচনা করলেই বিদ্রূপের সুরে কেউ কেউ বলেন “এতদিনে বুঝলেন?”
এই মন্তব্যের অন্তরালে একটি প্রচ্ছন্ন আত্মতৃপ্তি লুকিয়ে থাকে—বক্তা যেন বহু আগেই সব বুঝে ফেলেছিলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের গভীরতা, নেপথ্য উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য পরিণতি নাকি তাঁর অজানা ছিল না।কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে—তাঁরা আসলে কী বুঝেছিলেন? কেবল প্রতিপক্ষের ব্যর্থতা ও ত্রুটিই কি তাঁদের উপলব্ধির সীমা ছিল? নাকি নিজের সমর্থিত দলের অন্যায়, বিচ্যুতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকেও একই দৃষ্টিতে দেখার নৈতিক সাহস তাঁদের ছিল?
নিজের দল যখন আদর্শিক বিচ্যুতি, দুর্নীতি কিংবা স্বেচ্ছাচারে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তাঁরা কতটা সোচ্চার ছিলেন এই প্রশ্ন কি তাঁরা কখনো নিজেদের বিবেকের কাছে রেখেছেন?
এটি কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়।  বরং এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির এক গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ। দলীয় আনুগত্যের অন্ধত্ব যখন বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তখন নিজের দলের অপকর্মও ‘উন্নয়নের স্বপ্নীল আবরণে’ ঢাকা পড়ে। অথচ প্রকৃত দেশপ্রেমের দাবি একটাই—অন্যায় যেই করুক, তার মুখোশ উন্মোচন করা।
এই দ্বৈত মানসিকতাই জাতিকে আজ এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যাঁরা দাবি করেন তাঁরা “আগেই বুঝেছিলেন”, তাঁদের কাছে একটি সরল প্রশ্ন রেখেই দেখা যেতে পারে—গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের অসংখ্য সীমালঙ্ঘন ও অনিয়মের সময় কি তাঁদের সেই বোধ সক্রিয় ছিল?
উদাহরণ হিসেবে নতুন শিক্ষাক্রমের কথাই ধরা যাক। কতটা অপরিপক্বভাবে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনার অভাবে এই কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা আজ সর্বজনবিদিত। কিন্তু বাস্তবায়নের সময় কয়জন বিবেকবান নাগরিক গঠনমূলক সমালোচনায় এগিয়ে এসেছিলেন? বরং একে ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে একাংশের বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। এর পেছনে যে রাজনৈতিক ইন্ধন ও আদর্শিক দুরভিসন্ধি কাজ করছিল, তা কি তখন বোঝা যায়নি?
উন্নয়নের আড়ালে দুর্নীতির যে ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে, তা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্রমেই ভঙ্গুর করে তুলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়নের নিচে নেমে আসা ছিল ভুল নীতি ও শাসন ব্যর্থতার একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে বিপুল সম্পত্তি অর্জন, কিংবা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অর্থ লোপাটের খবর যখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তখন দলীয় সমর্থকদের একটি অংশ এগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ কিংবা ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই দলীয় সুবিধাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই সত্য উপলব্ধির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
একইভাবে, মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতাও ছিল গভীর উদ্বেগের বিষয়। বঙ্গবন্ধুর নাম ও মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পরিসরকে ক্রমে গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হয়েছে। শিক্ষক, সাংবাদিক, ছাত্র, সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষদেরও ক্ষুদ্র সুবিধা ও আনুগত্যের বিনিময়ে দলীয় কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়, তখন তথাকথিত সচেতন সমাজের নীরবতা ছিল বিস্ময়কর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দলীয় আনুগত্যকে যোগ্যতার ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে।
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ধারাবাহিকভাবে প্রহসনমূলক নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকারকে সংকুচিত করেছে, গণতান্ত্রিক কাঠামোকে করেছে দুর্বল ও আস্থাহীন।যোগ্যতার বদলে তোষামোদকারীদের এমপি–মন্ত্রী বানিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যত এক ধরনের ‘হীরক রাজার দেশে’ পরিণত করা হয়েছে। যদি তথাকথিত বিজ্ঞজনেরা সত্যিই পরিস্থিতি আগে বুঝে থাকতেন, তবে দলকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে ফেরানোর নৈতিক দায় কি তাঁদের ছিল না?
সচেতন নাগরিক হিসেবে  আমার অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট—অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকা। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাদের নীতিগত ভুল, সীমালঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আমি ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছি। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও যখনই কোনো সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে, আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি। অথচ  সেই সময়েও বিদ্রূপের সুরে বলা হয় “শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে!”
এই ধরনের মন্তব্য কেবল দায়িত্বহীন নয়। এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির গভীর নৈতিক স্ববিরোধিতাকেই উন্মোচিত করে। দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসলে এই দলীয় বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতেই হবে। অন্যায় যেই করুক সে নিজের দল হোক কিংবা বিরোধী—তার প্রতিবাদ করাই গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি।
শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও বিচারব্যবস্থা তখনই সুরক্ষিত থাকবে, যখন নাগরিকরা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেবেন। রাজনীতি হওয়া উচিত দেশসেবার ব্রত, অন্ধ অনুসারিতার প্রতিযোগিতা নয়।
গত দেড় দশকে আমরা যদি নিজেদের পছন্দের দলের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও সামান্য হলেও সোচ্চার হতাম, তাহলে হয়তো আজকের এই গভীর সংকট এড়ানো সম্ভব হতো।এখনই সময় এই দ্বৈত মানসিকতা ও নীতিগত অসঙ্গতি পরিত্যাগ করার। দেশ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়-দেশ আমাদের সবার।
আসুন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর কখনো রুদ্ধ হবে না। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই দেশপ্রেমের প্রথম ও অপরিহার্য শর্ত।
লেখক
সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ
ফরিদপুর সিটি কলেজ, ফরিদপুর।
ইমেইল: সসৎৎধলনধৎর৭১@মসধরষ.পড়স

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।