বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালার আমানত ও নিয়ামত রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল জায়গার উপরে আল্লাহ তায়ালার বিধান প্রতিষ্ঠিত করব।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে ভালোবাসি। ১৮ কোটি মানুষকে ভালোবাসি। প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা ইজ্জত দিতে বাধ্য। আমাদের এই দেশ ৫৪ বছর অতিক্রম করেছে।
পালাক্রমে অনেকে শাসন করেছে, যারা জাতির জন্য যতটুকু ইতিবাচক কাজ করেছেন তাদেরকে ততটুকু ধন্যবাদ জানাই। যারা ব্যর্থ হয়েছেন সে দায় তাদের।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে এগোতে চাই। এদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে আমরা অন্তরে ধরে সামনের দিকে এগোতে চাই।
ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। মায়েদের ইজ্জত সম্মান নিরাপত্তার সাথে কর্মস্থলে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বস্তাপচা রাজনীতি করতে চাই না। প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না। আমরা এদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে চাই।
সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে শরিক করতে চাই। আমরা এ জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। আমরা মিলেমিশে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হ্যাঁ ভোট ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘হ্যাঁ মানে ভালোর দিকে এগিয়ে যাওয়া আর না মানে জুলুম নির্যাতনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আপনারা যদি আমাদের উপর আস্থা রাখেন তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা আস্থার প্রতিদান দিব। ৫ আগস্টের আগে সবচেয়ে দুঃখ, কষ্ট ভোগ করা দলটির নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৫ তারিখের পরে আমরা দল থেকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের উপর নির্যাতনকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা ১৫ দিন যাবৎ প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মসজিদ মন্দির ও উপাসনালয় পাহারা দিয়েছি।’
শেষে তিনি গোপালগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ মোল্লার হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় জেলা জামায়াতের আমির এম এম রেজাউল করিম, সেক্রেটারি জেনারেল আল মাসুদ খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
