ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ইফাদ’র নামে লোন দেওয়ার প্রতারণা: বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি

Doinik Kumar
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

157
শিমুল হাওলাদার, ঢাকা
আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) নাম ভাঙিয়ে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে মোহাম্মদ আলী মাইনু (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বেলায়েত হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগীর দাবি, ঋণ প্রদানের নামে তার কাছ থেকে ইতোমধ্যেই ২ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এখন ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে ১০ শতাংশ ‘উপহার’ বা কমিশন দাবি করা হচ্ছে।
প্রতারণার ফাঁদ:  অনলাইন আবেদন ও ভুয়া সনদ
ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেনের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অনুমোদনের কথা বলে অনলাইনে সাধারণ মানুষকে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এই চক্রটি।
তিনি ‘ইফাদ লিংক লোন’ প্রোগ্রামের অধীনে ঋণের জন্য আবেদন করলে তাকে আবেদন সনদ, লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত সনদ ও লোন অনুমোদন সনদসহ বিভিন্ন নথিপত্র প্রদান করা হয়। এসব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ‘ফেরতযোগ্য ফি’ ও ‘ফান্ড ট্রান্সফার ফি’ বাবদ বিভিন্ন ধাপে ২ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন তিনি।
প্রভাবশালী মহলের নামে জালিয়াতি
প্রতারক চক্রটি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন বিভাগের (বিআরডি) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত একটি ভুয়া চিঠি বেলায়েত হোসেনকে পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত শর্ত ও নথি পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের চ্যানেলের মাধ্যমে ঋণের টাকা পরিশোধ করা হবে।
তবে পরবর্তীতে চক্রটি দাবি করে, ঋণের ৩০ লাখ টাকা পেতে হলে ইফাদ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘উপহার’ হিসেবে মোট ঋণের ১০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে।
পরিচয় জালিয়াতি ও হুমকি
তদন্তে জানা গেছে, নিজেকে ‘ইফাদ’ এর ডিপার্টমেন্ট অব কান্ট্রি অপারেশনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ আলী মাইনুর জাতীয় পরিচয়পত্রের (ঘওউ) তথ্যের সাথে তার বাস্তব পরিচয়ের মিল নেই। এমনকি তিনি যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন সেটিও তার নামে নিবন্ধিত নয়।
ভুক্তভোগী বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমি বনানী ১৮ নম্বর রোডের ৭৪ নম্বর বাড়িতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করতে গেলে বনানী থানার একজন উপ-পরিদর্শকের উপস্থিতিতে সভা হয়। সেখানে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর থেকে আমাকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা দম্ভ করে বলছে, ‘আমাদের ক্ষমতা অনেক, পারলে প্রধান উপদেষ্টা বা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ কর’।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে এসেছে। ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত পৌঁছেছে। আইজিপির নির্দেশে সিআইডি এবং মালিবাগ সিপিসি হেড অফিস ইতোমধ্যে অভিযোগের নথিপত্র গ্রহণ করেছে। এছাড়া ফরিদপুরের পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১০ এবং র‌্যাব-১ কার্যালয় থেকেও ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে অনলাইনে ঋণ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। কোনো ব্যাংক বা সংস্থা ঋণের বিনিময়ে আগাম ‘উপহার’ বা বড় অঙ্কের ফি দাবি করলে তা নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
বর্তমানে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মাইনু এবং তার সহযোগী লোন অফিসার হিসেবে পরিচয়দানকারী লাকি খাতুনের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।