নিজস্ব প্রতিবেদক, সদরপুর
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির ধামাচাপা দিতে সার্ভিস বুকের পাতা ছিঁড়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম করার পাশাপাশি নথিপত্র জালিয়াতির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরনো সেই মালামাল আত্মসাতের ঘটনা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল আজাহার মিয়া সদরপুর উপজেলার মোজাফফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর পদ্মা নদীর ভাঙনে স্কুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে না জানিয়েই স্কুলের আলমারি, টিন, কাঠ ও টিউবওয়েল নিজের বাবুরচরের বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তিনি বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও মোজাফফরপুর স্কুলের মালামাল ফেরত দেননি। এই ঘটনায় তৎকালীন সভাপতি মো. কুদ্দুস দফাদার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও শাস্তিমূলক বদলি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার আজাহার মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে খোদ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেই লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে আজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে বালিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ (প্রশাসনিক বদলি) করা হয় এবং বিভাগীয় মামলায় তার দুটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন করা হয়।
সার্ভিস বুকে জালিয়াতির রহস্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আজাহার মিয়ার সার্ভিস বুকের দ্বিতীয় খণ্ডের ৮ নম্বর পৃষ্ঠায় লাল কালিতে ইনক্রিমেন্ট কর্তন ও শাস্তিমূলক বদলির তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংরক্ষিত সার্ভিস বুকে ২০০৮ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০১০ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত বালিয়ারচর স্কুলে কর্মরত থাকার কোনো তথ্যই নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, দণ্ড ও ইনক্রিমেন্ট কর্তনের তথ্য গোপন করতে সার্ভিস বুকের মূল পাতা ছিঁড়ে নতুন পাতা সংযুক্ত করা হয়েছে। সার্ভিস বুকের দ্বিতীয় খণ্ডের ৭/৮ নম্বর ও ১৭/১৮ নম্বর পৃষ্ঠার কাগজ ও রঙের সাথে বাকি পৃষ্ঠার কোনো মিল নেই, যা স্পষ্টতই ঘষামাজা ও পাতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আজাহার মিয়া বলেন, “সার্ভিস বুক আমার কাছে থাকে না, অফিসে থাকে। আমার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে যেসব মামলা হয়েছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।”
এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই অনিয়মের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
