গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামে শৈলদাহ নদীর জমি বালু দিয়ে ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাইফুল শিকদারের ছেলে রহমাত উল্লাহ, চর গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তার বাড়ির পাশ ঘেঁষে নদীর প্রায় ১০ শতাংশ জমি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, রেকর্ডভুক্ত জমির সীমানা ছাড়িয়ে নদীর অংশে ভরাটের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যদিও অনেকেই সরাসরি মুখ খুলতে চাচ্ছেন না, কিন্তু নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া বলেন, এভাবে যদি নদী দখল করে ভরাট করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই নদীর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। নদীর পানি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হলে নদীতে চর পড়ে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এতে আমরা এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
অভিযুক্ত রহমাত উল্লাহ বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগে এড়িয়ে যান এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অভিযুক্ত রহমত উল্লার ভাই সাকিব সিকদার রেকর্ডিয় সম্পত্তি দাবি করে বলেন, যদি খাস জায়গা ভরাট করে থাকি প্রয়োজনে বালি সরিয়ে নেয়া হবে।
এখনো পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসী পরিবেশ ও নদী রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল–আমিন হালদার বলেন, নদী ভরাট ও দখলের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডুমুরিয়া ইউনিয়নের সালুকা মৌজার চর গোপালপুরে অবস্থিত শৈলদাহ নদী একটি প্রাকৃতিক নদী হিসেবে এলাকায় পানি প্রবাহ, কৃষিকাজ ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে নদী ভরাট প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশ সচেতনদের।
