নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এক বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই রাজধানী অভিমুখে জনস্রোত নামতে শুরু করে। জানাজা শুরুর আগেই মানিক মিয়া এভিনিউ ছাড়িয়ে বিজয় সরণি, ফার্মগেট ও বাংলামোটর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
এক কাতারে দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃত্ব বেগম জিয়ার শেষ বিদায়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ নেতারা। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ।
এছাড়াও বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকসহ নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জানাজায় শরিক হন।
আবেগঘন শেষ মুহূর্ত জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “আমার মা সারা জীবন এ দেশের মানুষের জন্য জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। আজ তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
বিকেল সাড়ে ৩টায় যখন চন্দ্রিমা উদ্যানে বেগম জিয়ার মরদেহ কবরে নামানো হচ্ছিল, তখন বাইরে উপস্থিত লাখো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক সময়ের তেজস্বী এই নেত্রীর বিদায়ে পুরো দেশ এখন শোকে স্তব্ধ। সরকার ও দলের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
