ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২০ নভেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. টপ নিউজ
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বিনোদন
  10. রাজনীতি
  11. লাইফস্টাইল
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সম্পাদকীয়
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলফাডাঙ্গায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

Doinik Kumar
নভেম্বর ২০, ২০২৫ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

28
নিজস্ব প্রতিবেদক, আলফাডাঙ্গা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে এসে অধ্যয়ন করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলমুখী করতে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও সামগ্রী বিতরণসহ নানা আয়োজন করছেন তিনি। ইউএনও’র এই সক্রিয় ভূমিকায় অভিভাবক ও স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া তিনি শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতেও দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। উপজেলায় বিভিন্ন সাব-ক্লাস্টারে আয়োজিত পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে শিক্ষকদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মনিটরিং শুরু করেছেন। আকস্মিক স্কুল পরিদর্শন করে ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে যুগোপযোগী পাঠদানের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও রাসেল ইকবাল গত ২১ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার চরাঞ্চলের দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া টেলিভিশন, তিনটি ল্যাপটপ ও পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়াল ঘড়ি বিতরণ করেন।

এরপর গত ২০ মে মধুমতী নদীর ওপারে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ, খাতা-কলম ও পরীক্ষার ফোল্ডার বিতরণ করেন। নদী ভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শতাধিক শিক্ষার্থীকে জুতাসহ স্কুল ড্রেস এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের কমপক্ষে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে খাতা-কলম ও ছাতা বিতরণ করেছেন।

ইউএনও’র এই উদ্যোগ সম্পর্কে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে আসছিল। কিন্তু ইউএনও স্যার নিয়মিত পরিদর্শন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি শিক্ষা উপকরণ তুলে দিচ্ছেন। তার এই সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষকদেরও দায়িত্ববোধ অনেক বেড়েছে। এই উদ্যোগ আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে সত্যিই পাল্টে দিয়েছে।’

ইউএনও’র এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগগুলো সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শমসের উদ্দীন টিটো বলেন, ‘আলফাডাঙ্গায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইউএনও মহোদয়ের নানামুখী কর্মসূচি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইতোপূর্বে কোনো ইউএনওকে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখিনি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ‘ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এলাকার অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুরা এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসায় উপস্থিতির হারও বাড়ছে।’

জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘একটি জাতিকে উন্নত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, তাই শিক্ষার ওপর বিশেষ নজর দিয়েছি আমি। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, শিক্ষার বুনিয়াদ শুরু হয় প্রাথমিক স্তরে। যদি সফলভাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষার আগ্রহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় তবেই টেকসই উন্নয়ন সাধিত হবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।